ফেসবুকে গ্রুপ চ্যাট বন্ধ হওয়া নিয়ে ভুল ধারণা !

আগামী ২২ শে আগষ্ট থেকে মেসেঞ্জারে গ্রুপ চ্যাট সেবা বন্ধ করে দিচ্ছে ফেসবুক, এ নিউজটি পুরোপুরি সত্য নয়, কেবল পাবলিক গ্রুপের চ্যাটগুলো বন্ধের জন্য এমন উদ্যো্গ নিয়েছে ফেসবুক। প্রকৃতপক্ষে মেসেঞ্জার চ্যাটে কোনো পরিবর্তন আসছে না। পরিবর্তন আসছে ‘ফেসবুক গ্রুপ’ থেকে চ্যাট করার যে সুবিধা গত বছর অক্টোবর মাসে চালু করা হয়েছিলো সেটিতে।

ফেসবুক কতৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৬ আগষ্ট থেকে শুরু হয়ে ২২ আগষ্ট পযন্ত সময়ের মধ্যে তারা ফেসবুক গ্রুপ এর চ্যাট সুবিধা প্রত্যাহর করবে। ২২ আগষ্টের পর আর এসব গ্রুপে চ্যাট করা সম্ভব হবে না। তবে আগের চ্যাট হিস্ট্রি দেখা যাবে। সম্প্রতি আরেকটি বিবৃতিতে ফেসবুক জানায়, মেসেঞ্জারে আগের মতো চ্যাট গ্রুপ সুবিধা বহাল থাকবে। এতে ফেসবুকের বন্ধু বা বন্ধু নয় এমন যে কারো সাথে কানেক্টেড থাকলে গ্রুপ চ্যাট করা যাবে।

অভাবের দিনগুলো: ডা. জোবায়ের আহমেদ আমার মা তখন গ র্ভবতী। মায়ের পেটে আমাদের গোল্ডেন সিস্টার আদুরে ছোট বোন আফসানা। আফসানা এ পর্যন্ত তিনটা গোল্ডেন জিপিএ ৫ পাওয়ায় এই নাম তার। মা খুব অসুস্থ ছিলেন তখন। আমাদের অভাব ও তুঙ্গে। বাবা তখন বেকার। ঘরে বাজার নেই, চাল, ডাল, তেল, নুন কিছুই নেই। একটা নীরব হাহাকারের মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি। আমার এক কাকা তখন থাকতেন কুমিল্লা শহরের নানুয়া দিঘীর দক্ষিণ পাড়ে শরীফ মঞ্জিলে। উনি কুয়েতে থাকতেন। অনেক টাকা উনার তখন। দেশে আসার পর আম্মা আমাকে নিয়ে উনার বাসায় গেলেন। ২০০০ টাকা ধার চাইলেন।

মা অনেক কাকুতি মিনতি করলেন। আমরা না খেয়ে আছি, মার শরীরটা ভাল না; এসব বোঝালেন। কাকা মাথা নাড়লেন। আমি ও মা একটা আশা নিয়ে রাত কাটালাম উনার বাসায়। পরের দিন আসার সময় আমার হাতে উনি ২০ টাকার দুইটা নোট ধরিয়ে দিলেন। উনার বাসা থেকে টমছম ব্রিজের রিক্সা ভাড়া ছিল ৫ টাকা, বাসে টমছম ব্রিজ থেকে বলাকা বাসে আড্ডা বাজারের ভাড়া ছিল ১৭ টাকা। দুইজনের ৩৪ টাকা লাগল। উনি আমাদের এক টাকা বেশি দিয়েছিলেন। আমার মা বাস জার্নি করতে পারেন না। মোশন সিক্নেসের জন্য উনি বমি করে অস্থির হয়ে যান।

অনেক আশা নিয়ে কাকার বাসায় গিয়েছিলেন মা। আমরা যখন বাড়ি ফিরি, তখন অনেক বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টি ও মার কান্না একাকার হয়ে ঝরছিল। সেদিনের কথা আজও ভুলিনি। আমি তখন ক্লাস টেনের ছাত্র। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে জ্বর। সঙ্গে বমি। খাবারে অরুচি, মাথা ব্যথা। লেখাপড়া করতে পারছিলাম না। স্কুলে যেতে পারি না। জ্বর বেশি আসলে মা মাথায় পানির ঝর্না দিত। একটু একটু পানি মাথায় কপালে পড়ত, শান্তি লাগত। খুব খেতে পারছিলাম না। হঠাৎ নাবিস্কোর পাঁচ টাকা দামের গ্লুকোজ বিস্কুট খেতে ইচ্ছে হল খুব।

আমার মাকে সেদিন ৫ টাকা কেউ ধার দেয়নি। আমার সেই কাকা শহর থেকে বাড়ি আসলেন। কাকা সাদা শার্টের সামনের পকেটে ৫০০ টাকার অনেকগুলো নোট রেখেছিলেন। টাকা দেখিয়ে বেড়ানো বড়লোকদের বিরাট ব্যাপার। আমার মরহুম দাদী কাকাকে আমাদের নাজুক অবস্থার কথা বলে আমাকে দেখে যেতে বললেন। কিছু সাহায্য করতে অনুরোধ করেছিলেন। কাকা সেদিন বলেছিলেন, যে যেমন ইনকাম করবে, তার বাচ্চারা তেমন খাবে। ইনকাম না করতে পারলে না খেয়ে থাকবে। নাবিস্কোর গ্লুকোজ বিস্কুট খেতে না পারার সেই দিনকে আজও ভুলিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *