Home / Uncategorized / অবসরেও সুস্থ থাকুন!

অবসরেও সুস্থ থাকুন!

চাকরিজীবীদের বেলায় অবসর গ্রহণের সময়টাকে বিরাট একটা টার্নিং পয়েন্ট বলে বিবেচনা করা হয়, বিশেষ করে যারা গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থাকার কারণে ব্যস্ততার মাঝে সময় কাটান অবসর গ্রহণ তাদের শরীর ও মনে বেশ নেতিবাচক একটা প্রভাব বিস্তার করে যার ফলে অনেকেই হঠাৎ করে মানসিকভাবে বিপর্যস্তও সেই সঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে কেউ কেউ আছেন, যারা এই সময়টাকেও সুন্দরভাবে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন কাটাতে সমর্থন হন। অবসর গ্রহণের পরও জীবনটাকে কেমন করে উপভোগ করা যায় সে ব্যাপারে উন্নত বিশ্বে পরিচালিত কয়েকটি সমীক্ষার ফলাফল এখানে তুলে ধরা হলো।

অবসর গ্রহণের পরে সুখী জীবনযাপনের প্রধান এবং প্রথম সর্তই হচ্ছে ভালো স্বাস্থ্য। সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রচুর অর্থ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও যাদের স্বাস্থ্য ভালো নয়, তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি ব্যক্তি নিজেদের অসুখী মনে করেন। যারা ক্ষমতায় থাকার কারণে চাকরি জীবনটাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তাদের জন্য অবসর সময়টাকে অনেক বেশি কঠিন বলে মনে হয়। তাই কখনোই শুধু ক্ষমতা দেখানোর মধ্যেই নিজের সার্থকতা খুঁজে বেড়াবেন না। কে জানে পরে এটাই হয়তো আপনাকে অনেক বেশি অসুখী করে তুলবে।

যদিও সুন্দর এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য একটা পরিমাণ টাকা থাকা প্রয়োজন কিন্তু অবসর গ্রহণের পর প্রয়োজনের তুলনায় বেশি টাকা অতিরিক্ত কোনো মুখানুভূমি আনতে পারে না বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে। অবসর গ্রহণের পর শুয়ে বসে না থেকে ব্যায়াম এবং বিভিন্ন শারীরিক কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যেতে হবে। সাঁতার কাটা, বাগান করা এ জাতীয় কর্মকান্ডে ব্যায়ামের উপকার পাওয়া ছাড়া মনও আনন্দে ভরে উঠতে দেখা যায়। তবে নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো পদ্ধতিই মেনে চলা যেতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক কর্মকান্ড শরীরকে শক্তিশালী করে তুলতে বেশি সহায়ক।

সম্ভব হলে বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করা যেতে পারে। স্বাস্থ্যসম্মত সুষম খাদ্য এ সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শাকসবজি এবং ফলমুল ভরপুর খাদ্য তালিকা আপনাকে হয়তো আরো সজিব করে তুলবে। বিবাহিত ব্যক্তিরা অবিবাহিতদের তুলনায় বেশি সুখী সময় কাটান। যদি স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ে একই সঙ্গে অবসর সময় কাটাতে পারেন তবে তারা একা অবসর সময় কাটানোদের তুলনায় বেশি সুখী থাকেন। গ্রিন উইক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষায় দেখা গেছে, অবসরকালীন সময়ে সুখী সময় কাটানোর ক্ষেত্রে শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন এবং বন্ধুত্ব প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি গুরুত্ব বহন করে। সন্তান এবং নাতি-নাতনিদের নিয়ে সময় কাটানো গেলেও তা ততটা আনন্দদায়ক হয় না। অসুখী মানুষরা বেশি টেলিভিশন দেখেন।

অবসর গ্রহণের পর টিভি দেখার জন্য অখন্ড অবসর মেলে। কিন্তু ২০০৫ সালে জুরিখের এমপেরিকাল রিসার্চ ইন ইকোনমিক্স প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, বেশি সময় ধরে টিভি দেখা ব্যক্তিরা কম টিভি দেখা ব্যক্তিদের তুলনায় কম তৃপ্ত থাকেন। ২০০৮ সালে পরিচালিত ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড কর্তৃক পরিচালিত সমীক্ষায় একই ফলাফল ওঠে এসেছে এবং দেখা গেছে বেশি সময় ধরে টিভি দেখা এবং অসুখী অনুভূত হওয়ার মধ্যে একটা সরাসরি সম্পর্ক আছে। তাই অধিক সময় ধরে টিভি দেখাটা পরিহার করতে হবে। বিভিন্ন ধরনের খেলা এবং কাজের মাধ্যমে মস্তিষ্ককে উদ্দীপ্ত করে তুলুন।

দেখা গেছে ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যেও যারা টিভি না দেখে মস্তিষ্ক উদ্দীপ্ত করে তুলতে সক্ষম এমন ধরনের খেলা বা অন্যান্য কর্মকান্ডে ব্যস্ত থাকেন তাদের মধ্যে আলজিমার্স রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। এ সময়ে অফিসের বস ভীতি থাকে না ঠিকই কিন্তু অন্য কোনো ধরনের চাপ থেকেও নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে। প্রয়োজনে চাপমুক্ত থাকার বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি অনুশীলন করা যেতে পারে। অবসর গ্রহণের পর সম্ভব হলে কোনো নতুন ধরনের কাজের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করে তোলা ভালো। এ ক্ষেত্রে কত ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে বা কত টাকা পাওয়া যাচ্ছে সে হিসেব না করে নতুন কাজে মেতে উঠতে পারলে অনেক বেশি সুফল পাওয়া যায়।

এমনকি নতুন চাকরি না করে যদি সৃষ্টিশীল অথবা সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে যুক্ত করে তোলা যায় তবে সে ক্ষেত্রেও একই সুফল পাওয়া যায়। আনন্দঘন সময়ও মনের পরিতৃপ্ততা মানে হচ্ছে সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘ জীবন। তাই অবসর গ্রহণের পরের চিন্তায় আগে থেকেই অনিশ্চিয়তায় ভুগে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার চেষ্টায় লিপ্ত না হয়ে সুস্থ জীবনের লক্ষ্যে নিজেকে তৈরি করায় সচেষ্টা হওয়াই শ্রেয়।

About admin

Check Also

রণবীরের প্রস্তাব বাতিল করলেন আলিয়া !

ফ্যান্টাসি ড্রামা ‘ব্রহ্মাস্ত্র’-র মুক্তির আগেই একসঙ্গে পাওয়া গেল রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাটকে। দর্শক দেখতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *